Menu

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুনজুর ও ফারুক অটো রাইস মিলে বের হচ্ছে ক্ষতিকর অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া ও ছাই

কানসাট নিউজ ২৪ ডট কম:
শিবগঞ্জ নামো চাকপাড়ার জাহাঙ্গীরের ছেলে রাসেল (২৩) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার বুলনপুরে অবস্থিত আলহাজ্ব মো. মনজুর আলীর মালিকানাধিন মেসার্স মুনজুর অটো রাইস ও মেসার্স ফারুক অটো রাইস মিলে বের হচ্ছে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া। এতে চরম ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ, মানবসম্পদের ও ফসলের। কালো ধোয়ার সাথে সাথে বের হচ্ছে তুষের মোটা ছাই। এছাড়া মিলের ছাই চারিদিকে উড়েও ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। বিষয়গুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের দেখভাল করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তেমন একটা নজর পড়েনা এসবের দিকে। তবে যোগাযোগ করা হলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ।

শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভাটার চিমনির চেয়েও অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে সদর উপজেলার আতাহার বুলনপুরে অবস্থিত আলহাজ্ব মো. মনজুর আলীর মালিকানাধিন মেসার্স মুনজুর অটো রাইস ও মেসার্স ফারুক অটো রাইস মিল থেকে। কালো ধোঁয়ার সাথে সাথে বের হচ্ছে মোটা মোটা ছাইও। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথিকদের শরীর ও চোখে মুখে পড়ছে এসব ছাই। পড়ছে পার্শ্ববর্তী জমিতে ও বসতবাড়িতে।

যার ফলে দূষিত বায়ু সাধারণ মানুষের দেহে প্রবেশ করে আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে। শ্বাসনালীর ক্ষতি হচ্ছে। হচ্ছে চর্ম রোগসহ নানা রোগ। শুধু ধোয়া নয়, মিলে ব্যবহৃত তুষের ছাই বাতাসে মিশে পথচারিদের চোখে পড়ছে। এতে চোখের নানা রোগ ও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া আশপাশে আবাদি ফসলের সমস্যা হচ্ছে। আম মৌসুমের শুরুতে আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমচাষিরা এই কালো ধোঁয়া আর তুষের ছাইয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন। কৃষক ও আমচাষিরা অভিযোগ করেন আমের এই ভরা মৌসুমে রাইস মিলের কালো ধোঁয়া ও ছাই নিয়ে বিপাকে আছি আমরা। ছাই পড়ে জমির ফসলের উবরতা কমে গেছে, মোটা ছাই জমির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এমনিতেই ধানের দাম নেই, তার উপর আবার রাইস মিলের ছাই। সব মিলিয়ে আমরা কৃষকরা দিশেহারা। সারাবছরই রাইস মিলের ধোঁয়া ও ছাই পড়ছে আমাদের শরীরে, বিছানায়, খাবারে, জমিতে। কালো ধোঁয়ার কারণে এলাকার মানুষের কঠিন কঠিন রোগ হচ্ছে।

গত কয়েক বছর এমনিতেই আমের দাম নিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আবার এই মৌসুমে মেসার্স মুনজুর অটো রাইস মিল ও মেসার্স ফারুক অটো রাইস মিলের কালো ধোঁয়া ও ছাই জমিতে এবং আমের মুকুলের উপরে পড়ে আমের মুকুল নষ্ট হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এত পরিমান ক্ষতি হলেও যেন দেখার কেউ নেই। রাইস মিলের মালিক বিত্তবান হওয়ায় এসব দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায় কর্তৃপক্ষ। গরিবের দিকে কেই বা দেখবে?

এব্যাপারে চাঁপাইনাববগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলহাজ্ব মুঞ্জুরুল হুদা জানান, ইটভাটা বা অটো রাইস মিলের ধোঁয়া ও ছাই আমাদের পরিবেশের জন্য একদম ক্ষতিকর। যা থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস বের হয়। এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। এছাড়া আমরা বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ দেখেছি, বিভিন্ন এলাকায় রাইস মিলের ছাই বাতাসে উড়ে মানুষের চোখে পড়ে চোখ নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় দেখা গেছে, আশপাশের বাড়িগুলোর খাবার ও চাষিরা মাঠে খাবার খেতে গেলে সে খাবারে ছাই পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস যা পানিতে পড়ে এসিডে পরিণত হয়। যা পরবর্তীতে বৃষ্টি হয়ে মাটিতে পড়ছে জমির ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হয়।

এছাড়া মানুষের বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে অটো রাইস মিলে ধোঁয়া ও ছাই। যার ফলে মানুষের শ্বাষকষ্ট, হাঁপানী ও এ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম নেমেই কল-কারখানা চালানো হলে, পরিবেশ কিছুটা রক্ষা হবে এবং বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিৎ। এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, কালো ধোঁয়া বা ছাই মানবদেহের এবং ফসলের জন্য ক্ষতিকর। কালো ধোঁয়া বা ছাই উড়ার বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments

Leave a Reply