Menu

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে তারেকের আপত্তি কেন?

নিউজ ডেস্ক:
৩০ লক্ষ প্রাণ আর তিন লক্ষ মা বোনের নির্যাতনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীন সোনার বাংলা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন আমাদের দেশের একটি বিশেষ শ্রেণী মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। বিভিন্ন সভা সেমিনারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের মাধ্যমে মূলত তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছোট ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। উক্ত ভিডিওতে দেখা যায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক নেতা বক্তৃতার শুরুতে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ উল্লেখ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করলে তাকে বাধা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। উক্ত বক্তা তার বক্তৃতার শুরুতে শহীদদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ বলা মাত্রই তারেক তাকে ডাক দিয়ে তার বক্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি জানান এবং উক্ত বক্তার সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। তারেক উক্ত বক্তাকে তার বক্তব্য সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ৩ লক্ষ বলার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত এবারই প্রথম নয়, এর আগেও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও ২০১৫ সালে এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন যে মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লক্ষ শহীদের কথা বলা হয় এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে এরকম ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা আমাদের জন্য হতাশাজনক।

পৃথিবীর কোনো বড় হত্যাকাণ্ড বা গণহত্যার সংখ্যাই সুনির্দিষ্ট নয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মতো এত বড় একটা বিষয় যেটা নিয়ে গবেষণার পর গবেষণা হয়েছে, সেখানেও মৃত্যুর সংখ্যা সুনির্দিষ্ট নয়। বলা হয়, ৫০ থেকে ৮০ মিলিয়ন। শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধই নয় পৃথিবীতে সংঘটিত হওয়া কোনো গণহত্যার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা থাকেনা কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বিভিন্ন সংবাদ সহ আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি প্রাসঙ্গিক এবং বাস্তবসম্মত আনুমানিক একটি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সংবাদ, তৎকালীন জনসংখ্যা এবং স্বাধীনতার পরের জনসংখ্যার হিসেব, শত শত বদ্ধ ভূমি বিবেচনায় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা আনুমানিক ৩০ লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতার পর শহীদদের সংখ্যা নির্ধারণে অসংখ্য দেশি বিদেশী গবেষণাধর্মী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণাধর্মী রিপোর্টের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মণ্ডলে প্রমাণিত। তবুও ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে যারা বিতর্কিত মন্তব্য কিংবা সন্দেহ পোষণ করে তারা মূলত পাকিস্তানিদের অপকর্ম কিংবা অপরাধের মাত্রা কম বোঝাতেই এমন মন্তব্য করেন। মনে প্রাণে তারা এখনো পাকিস্তানি মনোভাব ধারণ করেন। পৃথিবীতে বাংলাদেশই বোধহয় একমাত্র দেশ যার স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে অপপ্রচারের লিপ্ত রয়েছে এদেশেরই কিছু পাকিস্তানি প্রেতাত্মা।

সূত্র-অনলাইন

No comments

Leave a Reply